পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে দীর্ঘ ১৫ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ইউরোপের বৈধ কাগজপত্র (রেসিডেন্স কার্ড) হাতে পেয়েছিলেন বাংলাদেশি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। দেশে ফিরে স্বজন ও সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে কাছে টেনে নেওয়ার সব প্রস্তুতিও শেষ করেছিলেন। তবে দেশে ফেরার নির্ধারিত ফ্লাইটের ঠিক আগের দিনই হাসপাতালের বিছানায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
নিহত সাইফুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সিরাজদিখান সিরাজদিখান মালপাড়া এলাকার সাত্তার খান ও রহিমা বেগমের সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে দীর্ঘ ১৫ বছর আগে ইউরোপের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাইফুল। বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আইনি অনিশ্চয়তা শেষে তিনি পর্তুগালের বৈধ কাগজপত্র অর্জন করেন। নতুন জীবন শুরুর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি টেলিফোনে পরিবারের পছন্দে বিয়েও করেন তিনি। দেশে ফিরে ঘটা করে নববধূকে ঘরে তোলার কথা ছিল তার।
স্বজনদের জন্য কেনাকাটা এবং ফ্লাইট নিশ্চিত করে সুটকেস গুছিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন। তবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লিসবনের সেন্ট জোসে (Hospital S. José) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন।
বর্তমানে পর্তুগাল থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনার আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। যে পরিবারে সাইফুলকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন কেবল শোকের মাতম।

