চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের পর ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) ডলার সমমূল্যের অসংবেদনশীল পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে এই চুক্তিকে বরফ গলার বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমবে, যা মার্কিন ও চীনা ক্রেতাদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে স্বস্তি দেবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকমহল।
পণ্যের তালিকা ও কয়লা আমদানির প্রতিশ্রুতি
সমঝোতা অনুযায়ী উভয় দেশ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক ছাড় সুবিধা প্রদান করবে:
-
চীনের ছাড়: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত কৃষি পণ্য, সামুদ্রিক খাবার (সি ফুড), কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রসাধন সামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও মেডিকেল ডিভাইসের ওপর শুল্ক কমাবে বেইজিং।
-
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়: চীন থেকে আসা ছোট আকারের গৃহস্থালি সরঞ্জাম, খেলনা, উৎসবের সাজসজ্জা সামগ্রী এবং শিশুদের কার সিটের ওপর শুল্ক হ্রাস করবে ওয়াশিংটন।
-
কয়লা রফতানি: চুক্তির অধীনে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মেট্রিক টন কয়লা আমদানির নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন কয়লার বড় বাজার ছিল চীন, যা পরবর্তীতে থমকে গিয়েছিল।
বিরল খনিজ উপাদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাণিজ্য বিরোধের অন্যতম জটিল বিষয় ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ উপাদানের সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত রূপরেখা কিছুটা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘাটতি কাটিয়ে খনিজের চালান উপযোগী মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের যৌথ পর্যবেক্ষণ কাজ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি দুই শীর্ষ নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ডায়ালগ’ শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এপিইসি (APEC) এবং জি-২০ (G20) সম্মেলনে পুনরায় বৈঠকের প্রত্যয় ব্যক্ত করে ওয়াশিংটন সফর সম্পন্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

