আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
মৌলিক বিষয়ে ‘সাংবিধানিক গণভোট’ ও প্রস্তাবনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ১৪২ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিধানে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক করা হবে।
গণভোট কাঠামোর বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন:
-
১৪২ অনুচ্ছেদের পুনরুজ্জীবন: অতীতে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান সংরক্ষিত ছিল, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই গণভোটের বিধান আবার কার্যকরের পথ সুগম হয়েছে।
-
তত্ত্বাবধায়ক সরকারে গণভোটের শর্ত: ভবিষ্যতে যেন কোনো জাতীয় সংসদ সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল বা পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য উক্ত বিধান পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
-
দ্বিমুখী গণভোট: সাংবিধানিক গণভোট ছাড়াও প্রয়োজনে সাধারণ আইনি ও নীতি নির্ধারণী জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সরকার গণভোট আহ্বান করতে পারবে।
জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারকে অগ্রাধিকার
কমিটির বৈঠকে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী ফোরামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিরোধী জোট ও বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলোকে এই সংশোধনী বিলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আইনসভার প্রধান বিরোধী দলকেও প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পুনরায় উদাত্ত আহ্বান জানান। জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে বিল উত্থাপনের পর সাধারণ আলোচনা ও প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংশোধন বিলটি পাস হবে এবং নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহ রাষ্ট্রপতির অনুদর্শনের আগে চূড়ান্তভাবে জনগণের ভোটের (গণভোট) মুখোমুখি হবে।

