পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা আখ্যা দিয়ে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত যদি সঠিক পথে ফিরে না আসে, তবে পাকিস্তানকে বাধ্য হয়ে সরাসরি জবাব দিতে হবে।
ইসলামাবাদে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের প্রাক্কালে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ (বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
‘পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের রেড লাইন’
ভাষণে শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে এই শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে ভারতের কোনোভাবেই দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সিন্ধু নদ অববাহিকা ও পানিবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটা আমাদের জন্য রেড লাইন। ভারত যদি এই ইস্যুতে সঠিক ও দায়িত্বশীল পথে না আসে, তাহলে সরাসরি জবাব দেওয়া ছাড়া পাকিস্তানের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।”
সেনাপ্রধানের প্রশংসা ও সংঘাতের কথা
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর গতিশীল ও সাহসী নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখেছে। সংঘাতের স্মৃতি স্মরণে নির্মিত অনন্য নকশার এই ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ স্মৃতিস্তম্ভটি মাত্র আট মাসের মধ্যে সম্পন্ন করায় সেনাপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট দলকে অভিনন্দন জানান তিনি।
বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রসঙ্গ
শাহবাজ শরিফ তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরেন:
- ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় এবং ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
- প্রতিরক্ষা চুক্তি: সৌদি আরবে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ তুরস্কের অন্তর্ভুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।
- আফগানিস্তান ও কাশ্মীর: কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে কাবুলকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
যৌথভাবে স্মারক উন্মোচন
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যৌথভাবে এই ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। জমকালো এই আয়োজনে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রাদেশিক গভর্নর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

