পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণে মানহীন এবং মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর প্রমাণিত হওয়ায় কাজী ফার্মসের মাফিন কেকে বিষাক্ত অম্লতা ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। মেয়াদ দুই মাস নির্ধারণ করা হলেও এতে ব্যবহৃত হয়নি সরকারনির্ধারিত প্রয়োজনীয় প্রিজারভেটিভ। এ অপরাধে কাজী ফার্মসকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মাহমুদুল হক এই দণ্ড প্রদান করেন।
ল্যাব পরীক্ষায় ভয়াবহ তথ্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খাদ্য পরীক্ষার ল্যাবে বেশ কয়েকটি নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কজাত খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কাজী ফার্মসের মাফিন কেকের নমুনায় ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য উঠে আসে:
-
উচ্চ অম্লতা: উৎপাদনের ১৫ দিন পরেই কেকে অম্লতার (আদ্রতা ও অ্যাসিডিক মাত্রা) পরিমাণ পাওয়া গেছে ৩.৩২; অথচ মানদণ্ড অনুযায়ী তা থাকার কথা মাত্র ১।
-
অনুমোদিত প্রিজারভেটিভের অনুপস্থিতি: ল্যাব পরীক্ষায় দেখা যায়, পচন রোধে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রয়োজনীয় প্রিজারভেটিভ এই মাফিন কেকে ব্যবহার করা হয়নি।
ল্যাবের জনস্বাস্থ্য এনালিস্ট ইলিয়াছ জাহেদী জানান, পণ্যটিতে অম্লতা ও আদ্রতা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেকটি মানহীন, খাওয়ার অনুপযোগী এবং বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতিকর খাবার তৈরি বন্ধে প্রতিষ্ঠানটিকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “কোম্পানি যত বড়ই হোক না কেন, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই জরিমানা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।”
এদিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাজার থেকে ক্ষতিকর ও মানহীন এই মাফিন কেক তুলে নিয়ে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কাজী ফার্মস। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতকে দেওয়া সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

