আগামী ১১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের জাতীয় জনশুমারি। প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিচালিত এই প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এবিএস)। দেশের জনসংখ্যা, আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিস্থিতির হালনাগাদ চিত্র পেতে এই শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এবিএস জানিয়েছে, ১১ আগস্টকে এবারের ‘সেন্সাস নাইট’ বা জনশুমারি রাত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে অবস্থানরত সবার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি অস্থায়ী ভিসাধারী এবং পর্যটকেরা এই বাধ্যবাধকতার আওতায় থাকবেন।
অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত নির্দেশনার পরও জনশুমারিতে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা ভুল তথ্য দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনলাইনে ফরম পূরণ প্রাধান্য
এবারের শুমারিতে অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ডাকযোগে প্রতিটি ঠিকানায় পাঠানো চিঠিতে ‘সেন্সাস নম্বর’ ও গোপন লগইন তথ্য থাকবে। তা ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাগজের ফরম পূরণের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল, গৃহহীন মানুষ ও বিশেষ সুবিধাবঞ্চিতদের শুমারির আওতায় আনতে বিশেষ দল মাঠে কাজ করবে।
আসছে নতুন প্রশ্ন
২০২৬ সালের শুমারিতে তথ্যের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য লিঙ্গপরিচয়, জন্মকালীন নিবন্ধিত লিঙ্গ ও যৌন অভিমুখিতাসংক্রান্ত প্রশ্ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এবার একাধিক বংশগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় উল্লেখ করার সুযোগ পাবেন নাগরিকেরা। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার তথ্য সংগ্রহেও পরিমার্জন আনা হয়েছে।
তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবহার
এবিএস জানিয়েছে, সংগৃহীত তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায়—এমন কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
শুমারির ওপর ভিত্তি করেই নতুন স্কুল, হাসপাতাল, সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন এবং শিশু ও প্রবীণ সেবা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আগামী ১১ আগস্টের এই শুমারি শেষে তথ্য যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে মূল ফলাফল প্রকাশ করবে সংস্থাটি।

