ফ্রান্সের লেস লান্দে বনাঞ্চলে দাবানল রোধে বন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের তাগিদ

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লেস লান্দে বনাঞ্চল আবারও ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। ২০২২ সালের বড় অগ্নিকাণ্ডের মাত্র চার বছর পর এই বিপর্যয় ঘটল। পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট এই বনাঞ্চলটি ১৯৪৯ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যাতে ৮২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের দাবানলে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণ এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত লেস লান্দে বনাঞ্চলটি মূলত ১৯ শতকে কাঠ ও রজন উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এখানে পাইন গাছগুলো খুব ঘনভাবে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে, যা দাবানলের সময় আগুনের দ্রুত বিস্তারে সহায়তা করে। ইউরোপ বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নশীল মহাদেশ হওয়ায় এই বনাঞ্চলটি আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এই বনাঞ্চলের শিল্পভিত্তিক কাঠামোর ধরনও এর জন্য দায়ী।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, বনাঞ্চলটি নতুন করে সাজানোর সময় ভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর কথা ভাবতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট কাঠামোগত পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে, সেই সাথে আবাসন ও পর্যটনের চাপও বেড়েছে।

বন ও কৃষি বিশেষজ্ঞ নাথালি নলেটের মতে, সামুদ্রিক পাইন গাছ আগুনের বিরুদ্ধে কিছুটা প্রতিরোধী হলেও, একচেটিয়া পাইন বনাঞ্চল মিশ্র বনের চেয়ে অনেক বেশি শুষ্ক থাকে। একটি স্বাস্থ্যকর ও বৈচিত্র্যময় বনে ওক বা বিচ গাছের মতো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকে, যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু লেস লান্দে বনাঞ্চলে এই স্তরবিন্যাস নেই। পাইন গাছের ঝরা পাতা মাটির ওপর শুষ্ক স্তূপ তৈরি করে, যা আগুনের জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

বর্তমানে দমকল বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জ্বলন্ত অঙ্গার নেভানোর কাজ করছেন, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী জ্যঁ-ফ্রাসোয়া পনার জানান, বারবার নেভানোর পরও আগুন বারবার জ্বলে উঠছে। রেজিনযুক্ত পাইন গাছের মোচাও আগুনের সময় বাতাসের তোড়ে শত শত মিটার দূরে ছিটকে পড়ে আগুন ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

লেস লান্দে বনাঞ্চলের ৯০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। সাউথওয়েস্ট ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, এই খাতটি প্রায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি আয় করে। বন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনে কাঠ শিল্প, মালিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস লাফন জানিয়েছেন, বনাঞ্চল পুনর্গঠনে বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বন মালিকরা এই বিপর্যয়ের জন্য নিজেদের দায়ী করার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তারা নিজেরাই এর প্রধান শিকার।

দাবানল মোকাবিলায় নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে জনবসতির চারপাশে বাফার জোন তৈরি, জলাভূমি বাড়ানো এবং মিশ্র প্রজাতির গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ভূগোলবিদ আর্থার গুয়েরিন-তুর্ক। ফরেস্ট ফায়ার ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশনের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ব্রুনো লাফন বড় ও সুসংরক্ষিত ফায়ারব্রেক বা অগ্নিনির্বাপক পথ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া দাবানল কবলিত এলাকায় শিকার নিষিদ্ধ করার দাবিতে ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি অনলাইন পিটিশনও জমা পড়েছে।

শিরোনাম :
আগস্টের প্রথম ৮ দিনেই এলো ৯১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স মার্কিন বাজারে এবার যেতে পারে ঝালকাঠির পেয়ারা অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র শীতে চরম বিপর্যয়: তিন রাজ্যে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা শেষ মুহূর্তে মন্ত্রীর ভাষণ বাতিল, অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস জাতীয় দলের ফুটবলারদের বাফুফে সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি! অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা ও  পিঠা উৎসব আরব মরুভূমির উট এখন অস্ট্রেলিয়ায়, জন্ম দিচ্ছে নতুন ব্যবসার অস্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুকদের জন্য হাইকমিশনের জরুরি সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!! আগস্টের প্রথম ৮ দিনেই এলো ৯১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স মার্কিন বাজারে এবার যেতে পারে ঝালকাঠির পেয়ারা অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র শীতে চরম বিপর্যয়: তিন রাজ্যে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা শেষ মুহূর্তে মন্ত্রীর ভাষণ বাতিল, অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস জাতীয় দলের ফুটবলারদের বাফুফে সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি! অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা ও  পিঠা উৎসব আরব মরুভূমির উট এখন অস্ট্রেলিয়ায়, জন্ম দিচ্ছে নতুন ব্যবসার অস্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুকদের জন্য হাইকমিশনের জরুরি সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!!
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.