যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আবহ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি, অথচ এরই মধ্যে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোড়জোড় ও আগাম তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে সফর করছেন, দলীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন এবং পলিসি অবস্থান তুলে ধরে প্রার্থী হওয়ার সংকেত দিচ্ছেন।
সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরেই জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করেন মার্কিন নেতারা। ফলে ২০২৮ সাল দূরবর্তী মনে হলেও দলগত লড়াইয়ের সলতে পাকানো এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে।
ডেমোক্র্যাট শিবিরের হিসাব-নিকাশ
ডেমোক্রেটিক পার্টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বেশ দীর্ঘ হলেও কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেননি:
-
হাই-প্রোফাইল মুখ: সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের জনপ্রিয় তরুণ আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (AOC) এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর নাম জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে।
-
সক্রিয়তা: সম্প্রতি ওকাসিও-কর্টেজ জাতীয় নীতি নির্ধারণী বিষয়ে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে কমালা হ্যারিস মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
-
অন্যান্য দাবিদার: কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার, ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, সাবেক যোগাযোগ সচিব পিট বুটিগিগ এবং জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক প্রসারে কাজ করছেন।
দলটির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ধারার মধ্যকার অভ্যন্তরীণ নীতিগত অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ২০২৮-এর বার্তা ঠিক করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপাবলিকান শিবিরের সমীকরণ ও ট্রাম্প উত্তরসূরি
রিপাবলিকান পার্টিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কে ও কীভাবে নিজের কাঁধে তুলে নেবেন।
-
অগ্রগামী ভ্যান্স: বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে রিপাবলিকানদের প্রাথমিক দৌড়ে প্রধান ফ্রন্ট-রানার বা এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-
অন্যান্য প্রতিযোগী: ভ্যান্সের পাশাপাশি টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নাম নিয়ে জোরালো জল্পনা চলছে।
-
কৌশলগত পার্থক্য: জে ডি ভ্যান্স ট্রাম্পের নীতি ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে এগোচ্ছেন, অন্যদিকে টেড ক্রুজ ও র্যান্ড পলসহ প্রবীণ নেতারা মুক্তবাজার ও ঐতিহ্যবাহী কনজারভেটিভ ধারার ওপর জোর দিয়ে আলাদা অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সমীকরণের পরিবর্তন ও আগামী পথচিত্র
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। মধ্যবর্তী ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই অনেক শীর্ষ নেতার ভাগ্য ও দৌড়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারিত হবে। তাই এখনই কাউকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

