চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যালয়ের অবস্থান, যোগাযোগের দূরত্ব ও দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনা করে ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগসমূহ:
-
প্রক্সি শিক্ষক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূল শিক্ষকের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে (প্রক্সি শিক্ষক) পাঠদানের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
-
‘সায়েন্স টয়’ ও বাধ্যতামূলক ক্রীড়া কার্যক্রম: আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু হবে, যা শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল হতে সাহায্য করবে। এছাড়া নতুন কারিকুলামে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
-
প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার: মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

