দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এলো বড় খবর। অবশেষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম পে-স্কেল’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে নতুন এক নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আয়োজিত বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিকেল পাঁচটায় বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’ এবং এ-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে তৈরি করা নতুন বেতন স্কেল ও ভাতাদি নির্ধারণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে পে-স্কেলের বর্ধিত অর্থ ভেঙে ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামোর সরকারি প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারির প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারি হতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়ছে:
সর্বশেষ ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে সর্বোচ্চ (১ম গ্রেড) মূল বেতন ছিল ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন (২০তম গ্রেড) ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রেখে মূল বেতন গড়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা, যা আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বা ১ম গ্রেডের জন্য মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ১০০ শতাংশ বেশি।
বেতনের বৈষম্য কমাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ২০১৫ সালের ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে এবার ১:১.৭৮ করা হয়েছে, যা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

