প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে ঘুমানোর আগে মহান আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত মুমিনের হৃদয় প্রশান্ত করে। বিশেষ করে রাতের বেলা যাবতীয় অনিষ্ট, বিপদ-আপদ ও শয়তানের অশুভ প্রভাব থেকে আত্মরক্ষার জন্য সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করার বিশেষ নির্দেশ ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে।
হাদিসের আলোকেও ফজিলত
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের আমল হিসেবে এ দুটি আয়াতের অপার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন:
-
যাবতীয় ক্ষতি থেকে সুরক্ষা: হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য তা (যাবতীয় ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য) যথেষ্ট হয়ে যাবে।” (সহিহ বুখারি: ৫০০৯)
-
ঘর থেকে শয়তান দূরীকরণ: হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব থেকে দুটি আয়াত নাজিল করে তিনি সুরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দুটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, শয়তান ওই ঘরের কাছে আসতে পারে না।” (সুনানে তিরমিজি: ২৮৮২)
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬)
বাংলা উচ্চারণ:
আমানার রাসুলু বিমা উংঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ। লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া কালু সামি’না ওয়া আত্বা’না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত; রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসীনা আও আখত্ব’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরাং কামা হামালতাহু আলাল্লাজীনা মিং কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতালানা বিহ। ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
বাংলা অর্থ:
“রাসুল তাঁর কাছে তাঁর রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ইমান এনেছেন, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর। (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসুলগণের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার কাছেই ক্ষমা চাই এবং আপনার দিকেই শেষ প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো করেছে তার সওয়াব পাবে এবং যা মন্দ করেছে তার নিগ্রহ নিজেই ভোগ করবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দেবেন না, যেমন চাপিয়েছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। হে আমাদের রব! আমাদের দিয়ে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আপনি আমাদের মার্জনা করুন, ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।”
রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ম করে এ আয়াত দুটি তেলাওয়াত করলে যেমন পরকালের বিশাল সাওয়াব অর্জিত হয়, তেমনি দুনিয়ার যাবতীয় অনিষ্ট থেকেও মহান আল্লাহ বান্দাকে হেফাজতে রাখেন।

