মানবজীবনে কখনো কখনো এমন কঠিন মুহূর্ত আসে যখন মনে হয় উত্তরণের সব পথ বুঝি একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জীবিকা বা রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা যখন মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে, তখন মুমিনের স্মরণে রাখা উচিত—মানুষের দরজায় বাধা থাকলেও মহান আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদাই উন্মুক্ত।
ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা রিজিক ও কল্যাণের এমন কিছু স্থায়ী পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা অবলম্বন করলে কঠিনতম সংকটেও রিজিকের পথ সুগম হয়। এমনই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নিচে আলোচনা করা হলো:
১. তাকওয়া (আল্লাহভীতি)
আল্লাহকে ভয় করে তাঁর অবাধ্যতা ও পাপকাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নাম তাকওয়া। এটি শুধু আখেরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়ার যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণেরও প্রধান মাধ্যম।
কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন:
‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’— সুরা আত-তালাক, আয়াত: ২–৩
পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক না কেন, তাকওয়ার পথ ত্যাগ না করলে আল্লাহ তাআলা অদেখা কোনো মাধ্যম থেকে বান্দার জন্য সমাধানের পথ খুলে দেন।
২. ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা)
পাপ বা ভুলের বোঝা নিয়ে হতাশ না হয়ে বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে আসা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি। ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর রহমত ও বরকত পাওয়ারও উপায়।
হজরত নুহ (আ.)-এর দাওয়াতের প্রসঙ্গ টেনে কোরআনে বলা হয়েছে:
‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন। আর তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’— সুরা নুহ, আয়াত: ১০–১২
নিয়মিত ইস্তিগফারের চর্চা বান্দার জীবনে বরকত ও অনুকম্পার দুয়ার খুলে দেয়।
৩. শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা প্রকাশ)
বান্দার কাছে যা বিদ্যমান রয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা রিজিক স্থায়িত্ব ও বৃদ্ধির বড় মাধ্যম। প্রাপ্ত নিয়ামতকে ছোট মনে না করে আল্লাহর দরবারে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন:
‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’— সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭
মহান রবের ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল
পাখি যেমন সকালে খালি পেটে বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে, তেমনি রিজিকের ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল ও চেষ্টা থাকলে মহান আল্লাহ বান্দাকে কখনো বঞ্চিত করেন না। যে পথটি আজ বন্ধ মনে হচ্ছে, হয়তো তার চেয়ে উত্তম কোনো রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই দুশ্চিন্তায় ভেঙে না পড়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং এই তিন আমল অব্যাহত রাখাই সংকটের প্রকৃত সমাধান।

