আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য এ পর্যন্ত মোট ৭০২টি বেসরকারি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সপ্তম পর্যায়ে নতুন ২২টি যোগ্য এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগে ছয় দফায় আরও ৬৮০টি এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (২০২৭) সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হজের প্রাথমিক সময়সীমা ও নিবন্ধনের শর্তাবলি
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের পর সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অনুমোদিত এজেন্সিসমূহের ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়:
-
গ্রুপ (অ্যালায়েন্স) গঠন ও কোটা: নিবন্ধনের আগে যোগ্য এজেন্সিকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে গ্রুপ গঠন করতে হবে। প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে (যা একজন গাইডের জন্য নির্ধারিত সংখ্যা)। তা না হলে লিড এজেন্সিতে হজযাত্রী স্থানান্তরের (ট্রান্সফার) মাধ্যমে হজ গমন নিশ্চিত করতে হবে।
-
ই-হজ সিস্টেমে বাধ্যবাধকতা: ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ীই হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে এবং এই প্যাকেজটিই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যকার মূল চুক্তিপত্র হিসেবে গণ্য হবে। প্যাকেজে সেবার মান, অবস্থানের সময়সীমা ও খরচের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
-
অভিজ্ঞ গাইড নিয়োগ: প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ এবং হজ পরিচালনায় দক্ষ একজন করে গাইড নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
-
অনুমোদন ছাড়া নিবন্ধন নয়: অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে সৌদি আরবে পাঠানো যাবে না। কোনো এজেন্সি নিয়ম অমান্য করলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই সরাসরি লাইসেন্স বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিড এজেন্সি নির্ধারণে জরুরি তাগিদ
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সপ্তম তালিকায় নতুন অন্তর্ভুক্ত এবং আগের যেসব এজেন্সি এখনো লিডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের দ্রুত গ্রুপভুক্ত হয়ে লিড এজেন্সি নির্ধারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার মধ্যে লাইসেন্সধারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সব এজেন্সিকে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদন ছাড়া কোনো এজেন্সি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

