শিল্পকারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশে সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে সারাদেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার দেশের জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে এসেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
বিদ্যুতের উৎপাদন ও লোডশেডিং চিত্র
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, বুধবার বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ২৭১ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৩২ মেগাওয়াটে।
এক দিনের ব্যবধানে দেশে লোডশেডিং বেড়েছে ৭১৩ মেগাওয়াট (গত মঙ্গলবার যা ছিল ১ হাজার ৩১৯ মেগাওয়াট)।
বিদ্যুৎ সংকট বাড়ার মূল কারণ
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৩১ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হলেও পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, কয়লাভিত্তিক প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বড় ধাক্কা খেয়েছে:
-
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র: বুধবার সকালে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
-
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: একটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে, যা আগামী ১৭-১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে উৎপাদনে ফিরতে পারে।
-
অন্যান্য কেন্দ্র: বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় সেগুলো থেকেও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস সরবরাহ ও বিভিন্ন খাতের বর্তমান অবস্থা
তিতাস গ্যাসের পরিচালক (অপারেশন) সাইদুল হাসান জানান, তিতাস এলাকায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে তাঁরা ১৪১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন। শিল্প খাতে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।
-
শিল্প খাত: গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় উৎপাদনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
-
সিএনজি স্টেশন: দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা অনেক স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ ফিরলেও চাপের (Pressure) অভাব বজায় রয়েছে।
-
আবাসিক খাত: রাজধানী ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডি ও ভুতের গলিসহ একাধিক এলাকায় এখনও চুলায় নিচু চাপ (Low pressure) বা গ্যাসের অপ্রাপ্তিতে রান্না নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

