বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চলমান অস্থিরতার প্রভাব এখন মালয়েশিয়ার বিদ্যুৎ খাতের ওপর পড়তে শুরু করেছে। গত মার্চ মাস থেকে পেট্রোলের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছিল, তার রেশ এখন প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানি খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিয়মিতভাবে মাসে ৬০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকামাল নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের একটি ‘বিলম্বিত প্রভাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জোহর বাহরু সংসদীয় এলাকার মেডান নিয়াগা কামপুং মালায়ু মাজিদিতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য প্রতীকী চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতা প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের এই মূল্য উঠানামা মূলত ‘স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি সমন্বয়’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, পেট্রোলের বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে প্রতিফলিত হয় না। সাধারণত তিন থেকে চার মাসের একটি সময়ের ব্যবধানে সেই প্রভাব বাজারের জ্বালানি খরচে দৃশ্যমান হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যয় বাড়লে চূড়ান্তভাবে বিদ্যুতের শুল্কেও এর প্রভাব পড়ে থাকে, যা গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

