যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপের বাজারেও কমেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ইইউতে ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৮ লাখ ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি ২১ লাখ ইউরো।
এই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানিও ৫ দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। তবে বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পতনই সবচেয়ে বেশি। তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, ভারতের ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিপরীতে ইউরোপের বাজারে অবস্থান আরও শক্ত করেছে চীন ও ভিয়েতনাম। সাত মাসে চীনের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দেশটি রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ১৭ লাখ ইউরোর পোশাক। ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের চিত্রও। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, চীনের জোরালো বিপণন ও প্রতিযোগিতা এবং ভারতের দিকে কিছু ক্রয়াদেশ সরে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। এর সঙ্গে দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ উৎপাদন ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যাও রপ্তানিকারকদের চাপ বাড়াচ্ছে।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে প্রধান দুই বাজারে টানা রপ্তানি কমার এই প্রবণতা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

