ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্যারিসের ১৬তম অ্যারোঁদিসমঁতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম-এর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা। বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তিনি এ অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে ৫ আগস্টকে স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য বিজয়ের দিন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বাণীও পাঠ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে জাতি ঋণী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির বাণীর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫ আগস্ট পাসপোর্টসংক্রান্ত কনস্যুলার সেবা সীমিত থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা ৪ আগস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ রহিম, বাংলাদেশি নাগরিক ফোরামের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ)-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ খান, এনসিপি ডায়াসপোরা ফ্রান্সের সভাপতি ইফতেশাম চৌধুরী, মনোয়ার পাটোয়ারী, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহমেদ।
এছাড়া দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান এবং দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি একদিন আগে, ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

