কূটনৈতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ও বন্ধুত্ব সুদৃঢ়করণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি নতুন জায়ান্ট পান্ডা উপহার পাঠিয়েছে চীন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে চীনের চেংডু শুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভাড়ায় নেওয়া বিশেষ একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমানে পান্ডা দুটি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শীর্ষ এই বৈঠকের পরপরই দুই দেশের ‘পান্ডা কূটনীতি’ নতুন করে গতি পেল।
দীর্ঘ ১০ বছরের চুক্তি ও যাত্রা বিবরণী
বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কাড্ডয়ন ও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখতে চীনের নিজস্ব ‘পান্ডা কূটনীতি’ কর্মসূচির আওতায় সাধারণত ঋণ বা লিজ হিসেবে এসব বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণী পাঠানো হয়।
পান্ডা দুটির নাম পিং পিং (পুরুষ) ও ফু শুয়াং (নারী)। দুটিরই জন্ম ২০২০ সালে এবং বর্তমানে বয়স ৬ বছর।
-
গন্তব্য ও অবস্থান: আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত ‘জু আটলান্টা’-তে (Zoo Atlanta) আগামী ১০ বছর রাখা হবে এদের।
-
যাত্রাপথের আয়োজন: প্রায় ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ আকাশপথের যাত্রায় উড়োজাহাজে এদের প্রধান খাবার হিসেবে ভাপে তৈরি ভুট্টার বান, তাজা বাঁশের কঞ্চি ও গাজর সরবরাহ করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিচর্যাকারী দল।
-
বিমানের বিশেষ নজরদারি: ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এ বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি ফ্লাইট চলাকালে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক অন্বেষিত আকাশযান ছিল।
ইতিহাস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৯৯ সাল থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ‘জু আটলান্টা’-তে চীনা পান্ডার উপস্থিতি থাকলেও ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী চুক্তি শেষে সেগুলোকে ফিরিয়ে নেয় বেইজিং। নতুন জোড়া পৌঁছানোয় দুই বছর পর আবারও আটলান্টায় শুরু হলো পান্ডা যুগ।
চীনের এই আন্তর্জাতিক সফট পাওয়ার কৌশলের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের মাধ্যমে। মাঝে কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ উঠানামা করলেও শি জিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে নতুন এই বৈশ্বিক প্রাণী চুক্তি বাস্তবায়িত হলো।

