অসৎ বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি অন্তত ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও গবেষকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এআইয়ের অস্তিত্বগত ও নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়ে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এই মন্তব্য করেন।
এআই বিপ্লব ও প্রযুক্তির ঝুঁকি
সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, “দুষ্কৃতকারীদের হাতে পড়ে সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার হলে তা মানবজাতির জন্য নজিরবিহীন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এটি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে সক্ষম, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে।”
সিলিকন ভ্যালি ও বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে গবেষক ও শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তারাও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করছেন:
-
গবেষকদের ইস্তফা ও আশঙ্কা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের (Anthropic) সাবেক এক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়ে সতর্ক করেন যে, অতি-বুদ্ধিমান এআই তৈরির বিপজ্জনক খেলায় মানবজাতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
-
বিলুপ্তির ঝুঁকি: অ্যানথ্রোপিকের অন্য এক বিশেষজ্ঞ ধারণা দেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার অন্তত ১০ শতাংশ ঝুঁকি রয়েছে।
-
উন্নয়নের গতি কমানোর প্রস্তাব: উদ্ভূত ঝুঁকিতে এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীরগতির (Pacing) করার প্রস্তাব দিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই। এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
সরকারি আইনি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ
বিল গেটস জোর দিয়ে বলেন, কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতি বা আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-regulation) এআই প্রযুক্তি সুরক্ষায় যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “কি ধরনের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনীতিবিদ এবং নীতি নির্ধারকদের অবশ্যই সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়ন করতে হবে।”

