মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এ দারুণ সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশি পণ্য। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে স্থানীয় মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ক্রেতা ও আমদানিকারকদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে বাংলাদেশের স্টলগুলোতে।
মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ম্যাট্রেড)-এর উদ্যোগে ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এবারের ২৩তম মিহাস। ‘শেপিং ট্রাস্ট, ড্রাইভিং রেজিলিয়েন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বজুড়ে ৫৮টি দেশের ১ হাজার ৭০০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার বুথে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ৬টি প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়:
-
অংশগ্রহণকারী ৬ প্রতিষ্ঠান: এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুড লিমিটেড, বায়োফার্মা লিমিটেড, ঘরেরবাজার, নারিশ ফুড লিমিটেড, প্যারাগন গ্রুপ এবং তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড বেভারেজ।
-
প্রদর্শিত পণ্য: হালাল পানীয়, রেডি-টু-ইট ও হিমায়িত খাবার, সুগন্ধি চাল, মসলা, মধু, চা, ওষুধ ও কনজ্যুমার গুডস।
-
একক অংশগ্রহণ: সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব উদ্যোগে অংশ নেয় ‘প্রাণ’ এবং ‘এগ্রোভার্স লিমিটেড’ (মৈত্রী)। বৈচিত্র্যময় পণ্যের কারণে তাদের স্টলগুলোতেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
আসিয়ান বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ হাই কমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী মেলায় সমন্বিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য দেশীয় স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ম্যাট্রেডের সহকারী কার্যনির্বাহী জে শংকর।
তারা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আসিয়ান (ASEAN) অঞ্চলে রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘হালাল সনদ’-এর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
মেলায় উপস্থিত বাণিজ্য বিশ্লেষক ও প্রবাসীরা জানান, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতি বর্তমানে মাল্টি-ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন ও ইসলামিক অর্থায়নসহ ১৪টি খাতের এ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

