রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি রোধে তথ্যনির্ভর ও বিজ্ঞানভিত্তিক মশক নিধন জোরদার করতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই জরিপ কার্যক্রম আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
২,২৫০টি বাড়িতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’
ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মোট ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন (Random Sampling) ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাসা-বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
-
মাঠকর্মী: ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গঠিত ৭২ জন প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
-
প্রযুক্তির ব্যবহার: তথ্যের স্বচ্ছতা ও সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষায়িত অ্যাপ ‘কোবো টুলবক্স’ (KoboToolbox)।
-
সূচক বিশ্লেষণ: সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলোর ব্রেটু ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) এবং পিউপা ইনডেক্স (PI) নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু ইনডেক্স অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ
জরিপ শেষে প্রাপ্ত ব্রেটু ইনডেক্স (BI)-এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এলাকাগুলোকে ৩টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হবে:
১. ঝুঁকিপূর্ণ: BI সূচক ২০ বা তার বেশি।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: BI সূচক ১০ থেকে ১৯ এর মধ্যে।
৩. সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ: BI সূচক ১০ এর নিচে।
চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক সচেতনতার আহ্বান
ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “প্রাক-বর্ষা জরিপেই দেখা গেছে বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিই এডিসের প্রধান উৎপত্তিস্থল। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, নাগরিকদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগের বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার মাত্রা বিপজ্জনক অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খয়বর রহমান, সচিব মোঃ মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান উপস্থিত ছিলেন।

