বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে কেনার সুযোগ আরও শিথিল ও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়মে শর্তপূরণ সাপেক্ষে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকেরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটতে পারবেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা আগের নির্দেশনা সংশোধন করা হলো।
যেসব নতুন সুবিধা ও শর্ত শিথিল হলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী:
-
সরাসরি অর্থ নিষ্পত্তি: বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অর্থ সমন্বয় করলেও গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনার সুবিধা পাবেন।
-
আগের শর্ত শিথিল: আগে নিয়ম ছিল, টিকিট বিক্রির অর্থ অবশ্যই বাংলাদেশের স্থানীয় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। নতুন নির্দেশনায় সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
-
১৭টি এয়ারলাইনসে সুবিধা: দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এডি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (MCC) দেখে লেনদেন শনাক্ত করবে।
ভ্রমণসীমার (ট্রাভেল কোটা) বাইরে থাকবে টিকিটের খরচ
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সুবিধার আওতায় আন্তর্জাতিক কার্ডে কেনা টিকিটের মূল্য গ্রাহকের নির্ধারিত বার্ষিক ‘বৈদেশিক ভ্রমণসীমা’ (Travel Quota)-র সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিটের অর্থ পরিশোধ করলেও ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করা বার্ষিক ১২ হাজার ডলারের কোটা অপরিবর্তিত থাকবে।
এ ছাড়া যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহৃত অর্থ পুনরায় রিফিল করার ব্যবস্থা নেবে। একই সাথে এ ধরনের সব লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে অনলাইনে সরাসরি টিকিট কাটা সহজ হবে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য স্থানীয় ব্যাংকের সাথে আলাদা জটিল চুক্তি করার বাধ্যবাধকতা কমবে।

