আন্তর্জাতিক বাজারে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দরপতনের পর আবারও হঠাৎ বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত আগাম খবরের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা দৃষ্টি রাখায় বিশ্ববাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪৩.৮৭ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গতকাল সোমবার স্বর্ণের দাম গত ৫ আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৫.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে স্বর্ণের দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক প্রভাবক কাজ করছে বর্তমান বাজারে:
-
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনার খবর সামনে আসলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে।
-
সুদের হারের পূর্বাভাস: সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের তহবিল বাড়ছে।
সিএমইর ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতিতে অক্টোবর মাসে সুদের হার আরও এক দফা বাড়ানোর সম্ভাবনা ৭০.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৭.৬ শতাংশ। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা অ-সুদভিত্তিক সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের বদলে ট্রেজারি বন্ড কিংবা অন্যান্য স্থায়ী আমানতে ঝুঁকলেও বর্তমান অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের চাহিদা বজায় রয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারচিত্র
স্বর্ণের দামে চড়াও ভাব দেখা গেলেও বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দর কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে:
-
রুপা: প্রতি আউন্সে ০.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.৯১ ডলারে।
-
প্ল্যাটিনাম: ১ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ১ হাজার ৭০০.৪০ ডলারে নেমেছে।
-
প্যালাডিয়াম: ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০৯.২৬ ডলারে।

