উত্তর এশিয়ায় এক ভয়াবহ ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী তাপপ্রবাহ দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং জাপানকে গ্রাস করেছে। এই চরম আবহাওয়ার প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণিকুলের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০২.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশটির ইঞ্চিয়ন স্টেডিয়ামে বেসবল খেলা চলাকালীন এক তরুণ দর্শক জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নিতে হয় এবং খেলা ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখা হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সব ম্যাচ বাতিল করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এই তাপপ্রবাহকে 'জাতীয় দুর্যোগ' হিসেবে ঘোষণা করে প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পৌঁছেছিল, যা ১৯০৪ সালে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের উপ-পরিচালক মিন সন ইয়ং দেশটির রোদং সিনমুন পত্রিকাকে জানিয়েছেন, শরীরকে চাঙ্গা রাখতে প্রোটিনযুক্ত খাবার হিসেবে কুকুরের মাংস ও মাছের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীর শীতল রাখতে তরমুজ, শসা, টমেটো, মুগ ডাল ও আদা খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জাপানেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর জন্য হিট স্ট্রোকের সতর্কতা জারি করেছে। ২০ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১৮,০০০-এরও বেশি মানুষ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশটির কুমামোতো শহরে ২৮ জুলাই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড গরমে আশ্রয়ে থাকা ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাসহ ৩৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া ৪৩,০০০-এর বেশি পরিবার এখনো পানিহীন অবস্থায় রয়েছে। টোকিও’র একটি চিড়িয়াখানায় গরমে হিট স্ট্রোকে তিনটি সিংহ মারা গেছে। মুগি, ইচিগো এবং লুয়েনা নামের সিংহগুলোর ময়নাতদন্তে ডিহাইড্রেশন ও অঙ্গ অকেজো হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

