ইরানের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ভূখণ্ডে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জেরে ইউএই এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার ব্যবহার ও নিত্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউএই-এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইরানের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধাক্কা।
আইন ও বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট
- কঠোর নিষেধাজ্ঞা: ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান স্থগিত থাকবে।
- বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি: ওইসি (OEC)-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২০ কোটি ডলার, যার মধ্যে ইউএই থেকে ইরানে রপ্তানির পরিমাণই ছিল ৫৮০ কোটি ডলার।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা বড় চিন্তার কারণ?
১. নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর মূল পথ বন্ধ: ওয়াশিংটনভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নানা অবরোধ এড়াতে দুবাইকে মাধ্যম বানিয়ে বিশ্ববাজার থেকে প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও ভোগ্যপণ্য আমদানি করত তেহরান।
২. আর্থিক লেনদেনের পথ রুদ্ধ: দুবাই একটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হওয়ায় ইরান গোপনে অর্থ স্থানান্তরের কাজেও এই পথ ব্যবহার করত। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তেহরানের বহু বছরের পুরোনো অর্থ প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. আমদানিতে ধস: চীনের পর দুবাই থেকে ইরানের বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে। প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেবেল আলী বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ইরানে খাদ্য ও শিল্প পণ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে চলমান যুদ্ধে আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর ও বিভিন্ন অবকাঠামোয় ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের পাশাপাশি আমিরাতের এ পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতিকে আরও বেশি একঘরে করে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

