আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৫
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে হাজারো সমর্থক নিয়ে বিশাল ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দলটির নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
লংমার্চের নেতৃত্ব ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ:
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এই বিশাল লংমার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যাত্রাপথে কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। দলের সব সমর্থক ও তরুণ সমাজকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া: এর আগে পিটিআই নেতাদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া চলছিল। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় সপ্তাহান্তে সেই আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
-
দুপক্ষের বক্তব্য: দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে পিটিআই সহায়তা না করায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও পিটিআই নেতৃত্ব সরকারের এই অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইসলামাবাদজুড়ে কনটেইনারের ব্যারিকেড ও সতর্কতা:
পিটিআইয়ের বিশাল এই লংমার্চ ঠেকাতে রাজধানী ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার।
-
হাই-অ্যালার্ট ও বাহিনী মোতায়েন: রাজধানীর মূল প্রবেশ পথগুলোসহ স্পর্শকাতর সরকারি অবকাঠামো রক্ষা করতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর (রেঞ্জার্স) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
-
রাজধানী অবরুদ্ধ: লংমার্চ রুখে দিতে প্রধান সড়কগুলোতে শত শত শিপিং কনটেইনার ফেলে শক্ত ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়েছে। সরকার কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ৭৪ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে দেশটির কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ডজনখানেক মামলার অধিকাংশে দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হলেও একটি মামলায় এখনও সাজা বহাল রয়েছে এবং অন্যান্য আবেদনের আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

