সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কেবল অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পিত বিনিয়োগ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চার স্কিম ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার আহ্বান:
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়ায় একজন নাগরিক কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় নিয়মিত অংশ নেবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা পাবেন।
-
স্কিমসমূহ: সর্বজনীন পেনশনে ৪টি ভিন্ন স্কিম—প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাগরিকরা তাঁদের পেশা ও যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দসই স্কিম বেছে নিতে পারবেন।
-
পারিবারিক সচেতনতা: নিজের পাশাপাশি সন্তানের উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের নিয়ে সরকারি এই পেনশন স্কিমে দ্রুত যুক্ত হওয়ার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থার গুরুত্ব:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, দেশের অধিকাংশ পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মজীবন শেষে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার সুযোগ থাকে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশনের এই উদ্যোগ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে শেষ হয়, যার মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা:
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন স্কিমের প্রতিনিধি, সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

