যে জার্সি ছিল শৈশবের অধরা স্বপ্ন, দেশের গর্ব আর গোটা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—সেই ঐতিহাসিক আকাশি-সাদা জার্সিতে আজ শেষবারের মতো সবুজ গালিচায় নামছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগে নীরবতা ভেঙে এক অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। দীর্ঘ ২১ বছরের রঙিন আন্তর্জাতিক পথচলা শেষে মেসির কণ্ঠে ছিল না কোনো আক্ষেপ, বরং উপচে পড়েছে পূর্ণ তৃপ্তি। বিদায়লগ্নে মেসি বলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, কারণ আমি আমার সবটুকু দিয়ে গেছি।’
বুধবার বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচটি স্রেফ আর কোনো প্রীতি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের ফুটবলের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও সোনালি এক যুগের আবেগঘন সমাপনীতে।
‘তোমাদের খুব মিস করব’: ভক্তদের প্রতি মেসির বার্তা
ম্যাচের পূর্বে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তদের উদ্দেশ্যে মেসি অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন,
‘অবশেষে সময়টা এসে গেছে। এই আকাশি-সাদা জার্সিটি ছিল আমার পরম স্বপ্ন, আমার অহংকার এবং আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। আমাকে এত বছর ধরে এতটা ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার জন্য সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। তোমাদের প্রতি মুহূর্ত খুব মিস করব।’
২১ বছরের পথচলা ও ভাঙা-গড়ার গল্প:
২০০৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটেছিল এই বিশ্বসেরা মহাতারকার। শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না; তাতে ছিল ফাইনালে হারের যন্ত্রণা, গভীর হতাশা এবং নিজ দেশের মানুষেরই তীব্র সমালোচনা। তবে সব বাধা টপকে অদম্য প্রচেষ্টায় সেই পথচলাই ইতিহাসের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রূপ লাভ করে।
-
অতুলনীয় পরিসংখ্যান: জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। ১২৫টি অ্যাসিট ও ৬৬টি আন্তর্জাতিক গোলসহ তিনটি ক্যাটাগরিতেই (সর্বোচ্চ ম্যাচ, সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট) তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা।
-
স্বপ্নের মুকুট জয়: সব সমালোচনার জবাব দিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে দেশকে এনে দেন বিশ্বসেরার মুকুট।
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ একই সাথে থাকবে উদযাপনের উন্মাদনা এবং চোখের জল। আর মাঠে শেষবারের মতো যখন ১০ নম্বর জার্সি গায়ে ফুটবলের বরপুত্র দাঁড়িয়ে হাত নাড়বেন, তখন গ্যালারি থেকে কোটি ভক্তের এক আওয়াজই প্রতিধ্বনিত হবে—‘ধন্যবাদ, লিও!’

