বিবাহের মাধ্যমে শুধু শ্বশুরালয়ের সদস্য হওয়া নয়, বরং পদবি গ্রহণ করে পরিবারের মূল উত্তরসূরি এবং শতবর্ষী পারিবারিক ব্যবসার প্রধান কর্মকর্তা হয়ে ওঠার এক অনন্য সামাজিক ও আইনি রীতি প্রচলিত রয়েছে জাপানে। শতবর্ষ পুরোনো এই ব্যবস্থার নাম ‘মুকোয়োশি’, যা সহজ ভাষায় ‘দত্তক ঘরজামাই’ প্রথা হিসেবে পরিচিত। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদেশি এমনকি বাংলাদেশি নাগরিকরাও এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হতে পারেন।
ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা ও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য:
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিশু দত্তক নেওয়ার প্রথা জনপ্রিয় হলেও জাপানে মোট নিবন্ধিত দত্তকের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
-
পারিবারিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখা: জাপানে বহু প্রাচীন প্রতিষ্ঠান এখনো পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় অনুপযুক্ত হলে, যোগ্য জামাইকে দত্তক নিয়ে ব্যবসার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
-
পদবি রক্ষা ও আইনি নথি (কোসেকি): জাপানি রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। তবে ‘মুকোয়োশি’ প্রথায় জামাই শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করেন এবং জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে দত্তকপুত্র হিসেবে নিবন্ধিত হন। ফলে তিনি জন্মসূত্রে পাওয়া সন্তানের মতোই যাবতীয় সম্পদ ও উত্তরাধিকার লাভ করেন।
-
বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ: বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘সুজুকি মোটর করপোরেশন’-এর দীর্ঘদিন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওসামু সুজুকিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মাধ্যমে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে এসেছিলেন। এ ছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথার নজির রয়েছে।
বাংলাদেশিসহ বিদেশিদের সুযোগ কতটুকু?
আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি বা বৈধ ভিসা থাকা বিদেশি নাগরিকরাও নির্দিষ্ট আইনি ধাপ ও পারিবারিক আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে ‘মুকোয়োশি’ হতে পারেন।
-
নাগরিকত্ব ও ভিসা: কোনো বাংলাদেশি এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হলেও কেবল দত্তক হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা নতুন ভিসা মিলবে না; এর জন্য দেশটির প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী আলাদা আবেদন করতে হবে।
-
ম্যাচমেকিং ও সামাজিক পরিবর্তন: জাপানে বর্তমানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে পেতে বিশেষ ‘ম্যাচমেকিং’ সেবাও চালু রয়েছে। সেখানে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ প্রচলিত—‘নিজের ছেলে হয়তো পছন্দমতো বেছে নেওয়া যায় না, তবে জামাই বেছে নেওয়া সম্ভব।’

