রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত আরও একটি মেট্রোরেল পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ‘মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫’ (দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট) নামের এই প্রকল্পের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নতুন মেয়াদে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম অনুমোদিত মেট্রোরেল প্রকল্প হতে যাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বা ১৩.১ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ (পাতাল) এবং বাকি ৪.১ কিলোমিটার নির্মিত হবে উড়ালপথে। গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১১টি স্টেশন হবে মাটির নিচে এবং আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪টি স্টেশন হবে উড়াল। পুরো রুটে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপ:
-
প্রাক্কলিত ব্যয় ও অর্থায়ন: প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।
-
মেয়াদ ও সময়সীমা: চলতি মাসের (সেপ্টেম্বর ২০২৬) সূচনা ধরে প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
-
পরিবহন সক্ষমতা: শুরুতে ১৯টি এসি ট্রেন চলবে। প্রতি ট্রেনে ৬টি করে কোচ থাকবে, যা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। মাত্র ২৮ মিনিটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং প্রতি সাড়ে চার মিনিট পরপর ট্রেন ছাড়বে।
-
পুনর্বাসন: প্রকল্প এলাকায় ভূ-সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদ গেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথ চালু হলে ঢাকার পূর্ব-পশ্চিম অংশের যোগাযোগে বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তরাঞ্চলীয় রুট)-এর কাজ বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে এবং এগুলোর প্রস্তাবিত ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

