ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের ভিআইপি ও বিশ্বনেতাদের আসা-যাওয়ার সড়কগুলোর আশপাশে থাকা বস্তি এলাকা বড় বড় পর্দা এবং অস্থায়ী ব্যারিকেড দিয়ে ঢেকে দিয়েছে প্রশাসন।
দারিদ্র্য দূর করার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বিদেশি অতিথিদের কাছে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তব চিত্র গোপন করার অভিযোগে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।

‘মোদি সরকারের প্রিয় হিজাব’: পবন খেরা
দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহারের কুটি হিজ বা কুলি ক্যাম্প এবং মুনিরকা এলাকার প্রধান সড়কের পাশের নিম্নআয়ের বস্তি এলাকাগুলো সবুজ ও নীল-সাদা রঙের বড় পর্দা টানিয়ে আড়াল করা হয়েছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র ও এমপি পবন খেরা ক্ষমতাসীন বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন:
“বিজেপির কাছে সব ‘হিজাব’-ই অগ্রহণযোগ্য নয়। মোদির ব্যর্থতাকে যে হিজাব আড়াল করে, সেটিই তাদের সবচেয়ে প্রিয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দারিদ্র্য নির্মূলের দিকে নজর না দিয়ে কেবল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব ব্যর্থতা লুকানোর এই ‘প্রসাধনভিত্তিক’ চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

পুরোনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি ও উচ্ছেদ আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা বিশ্বনেতাদের সফরের সময় বস্তি এলাকা পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার এই চর্চা ভারতে নতুন নয়:
-
অতীতেও একই ঘটনা: এর আগে ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় আহমেদাবাদে এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ১৮তম জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও ঠিক একইভাবে রাজধানীর বস্তিগুলো পর্দা ও প্রকাণ্ড সাইনবোর্ড দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
-
বিপুল উচ্ছেদ অভিযান: তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলনের আগে দিল্লিজুড়ে প্রায় ৭৮টি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং এতে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ উচ্ছেদের শিকার হন।
ভেঙে পড়েছে বৈশ্বিক ব্যবস্থা: মনীশ তিওয়ারি
এদিকে একই দিনে এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস এমপি মনীশ তিওয়ারি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ীদের গড়ে তোলা পুরোনো বৈশ্বিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং সেখানে নতুন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিশ্ব এখন এক অনিশ্চয়তার ভেতর ভাসছে।”
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে আসিয়ান, কোয়াড, এসসিও বা ব্রিকসের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ কেবল তাৎক্ষণিক ফলাফলই শেষ কথা নয়; বরং পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই এক নতুন কার্যকর বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দিল্লির মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি মানুষ বস্তিতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ৬৫০টি নিবন্ধিত বস্তিতে অন্তত ১৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস করেন যাঁরা শহরের শ্রমশক্তির প্রধান স্তম্ভ।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ভিআইপিদের উপস্থিতির অজুহাতে তাঁদের সাধারণ যাতায়াত ও দৈনিক উপার্জনের পথ ব্যাহত করা ছাড়াও বারবার পর্দা টানিয়ে তাঁদের একপ্রকার অমানবিক ও অপমানজনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

