ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে জোটের শীর্ষ নেতারা এই সম্মেলনে একত্র হয়েছেন।
উদ্বোধনী ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোটের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ব্রিকস কোনো দেশ বা জোটের বিরুদ্ধে নয়। বৈশ্বিক মঞ্চে আমাদের ঐক্য ও সমঝোতাকে বাস্তবভিত্তিক ইতিবাচক ফলাফলেও রূপ দিতে হবে।”
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ছবি তুলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন— “দিল্লিতে শুরু হলো ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬।”
আলোচনার মূল এজেন্ডা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিষয়াবলী
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর চলা এই সম্মেলনে জোটভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করছেন:
-
বৈশ্বিক সুশাসন ও সংস্কার: গ্লোবাল গভর্ন্যান্স সংস্কার এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।
-
অর্থনৈতিক সহযোগিতা: ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ফিন্যান্স এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ লেনদেন বৃদ্ধি।
-
টেকসই প্রবৃদ্ধি: বাণিজ্য সহজীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
কড়া নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর নয়াদিল্লি
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী সাজানো হয়েছে এক উৎসবমুখর আমেজে। লুটিয়েন্স দিল্লি এলাকা আলো, নান্দনিক পুষ্পশোভা এবং ব্রিকস-থিম সাইনেজে বর্ণিল রূপ নিয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৩৫টিরও বেশি রাস্তায় বিকল্প ডাইভারশন জারি করেছে এবং ভারত মণ্ডপমের আশপাশের প্রধান রাস্তাগুলোতে রাত পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এদিকে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে মেঘলা আকাশের পাশাপাশি হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রিকস জোটের সদস্য দেশসমূহ
এবারের সম্মেলনে ১০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। দেশগুলো হলো: ভারত, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

