১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই কূটনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে ফের বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে পুতিনের বহুল চর্চিত রাজকীয় সাঁজোয়া লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’ (Aurus Senat)।

নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রেমলিন থেকে বিশেষ বিমানে করে মস্কো থেকে এই বুলেটপ্রুফ গাড়িটি নয়াদিল্লিতে আনা হয়েছে। রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই যানটিকে বলা হয় ‘ফোর্ট্রেস-অন-হুইলস’ বা ‘চাকার ওপর দুর্গ’।

কেন ‘দুর্ভেদ্য’ এই অরাস সেনাট?
পুতিনের দৈনন্দিন ও কূটনৈতিক সফরকালে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে অরাস সেনাটে যুক্ত করা হয়েছে সামরিক ধাঁচের নিরাপত্তাব্যবস্থা:
-
আর্মর্ড বডি ও বুলেটপ্রুফ: গাড়িটির বডি যেকোনো উচ্চ ক্ষমতার বুলেট বা আর্মার-পিয়ার্সিং গোলা প্রতিহত করতে সক্ষম।
-
বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধী: এর মজবুত অবকাঠামো গ্রেনেড, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আঘাত সহজেই সামলে নিতে পারে।
-
সাবমেরিন সক্ষমতা: আকস্মিক দুর্ঘটনায় গাড়িটি পানিতে পড়ে গেলে সাবমেরিনের মতো ভেসে থাকতে এবং জরুরি গতিতে পথ অতিক্রম করতে পারে।
-
বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল প্রোটেকশন: গাড়িটির কেবিনে রয়েছে আধুনিক এয়ার-ফিল্টারিং ব্যবস্থা, যা কোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক বা জীবাণু গ্যাস ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না।
-
রানার টায়ার প্রযুক্তি: চার চাকা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ফেটে গেলেও উচ্চ গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

গাড়ির ইঞ্জিন ও বিলাসবহুল ফিচার
এই সাঁজোয়া বাহনটির ইঞ্জিন ও ইন্টেরিয়র সমান নজরকাড়া:
-
ইঞ্জিন ক্ষমতা: অরাস সেনাটে ব্যবহৃত হয়েছে ৪.৪ লিটার টুইন-টার্বো V8 হাইব্রিড ইঞ্জিন। মাত্র ৬ থেকে ৯ সেকেন্ডের মধ্যে এটি শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম।
-
অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ভেতরের অংশ সাজানো হয়েছে সেরা মানের প্রিমিয়াম চামড়া ও কাঠ দিয়ে। এছাড়া এতে রয়েছে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক গোপন ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পটভূমি ও উৎপাদন
পূর্বে পুতিন মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস ৬০০ গার্ড ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে রাশিয়ার নিজ ‘কর্তেজ’ প্রকল্পের অধীনে ২০১৮ সালে অরাস সেনাট প্রকাশ্যে আনা হয়। এটি তৈরি করেছে ‘অরাস মোটরস’। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকেও এই গাড়ির একটি সংস্করণ উপহার দিয়েছিলেন পুতিন।
সাধারণ সংস্করণের অরাস সেনাটের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন রুবল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা)। তবে পুতিনের জন্য বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি সাঁজোয়া সংস্করণটির মূল্য এর প্রায় দ্বিগুণ, যা সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির জন্য অবমুক্ত নয়।
