২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব: বাংলাদেশ কি হতে পারবে দক্ষিণ এশিয়ার এআই হাব?

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কম্পিউটিং হাব (AI computing hub) হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইডিআইসি (EDIC)। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের একটি বড় পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইডিআইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল অথবা দেশের অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে একটি অত্যাধুনিক ‘ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার অ্যান্ড কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেইন কম্পিউট ক্যাম্পাস’ নির্মাণ করা হতে পারে।

 

প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পটি মূলত তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে:

  • প্রথম ধাপ: আগামী ২৪ মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি প্রাথমিক এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন।
  • দ্বিতীয় ধাপ: ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা।
  • তৃতীয় ধাপ: দীর্ঘমেয়াদে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উপযোগী অবকাঠামো এবং একটি জাতীয় এআই গবেষণা ইকোসিস্টেম তৈরি করা।

 

কী সুবিধা পাবে বাংলাদেশ?

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে প্রথমত, বাংলা ভাষাভিত্তিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) বা নিজস্ব চ্যাটবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের ভেতরেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা মিলবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে ডেটা সার্বভৌমত্ব বা ‘সোভরেইন ডেটা’ সুরক্ষায়; অর্থাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট খাতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

 

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অবস্থা

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিষয়টি এখনো একেবারেই প্রাথমিক আলোচনা ও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প এখনো অনুমোদন করা হয়নি এবং বিনিয়োগের বিষয়টিও চূড়ান্ত নয়।

প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিশাল ক্ষমতার ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়, যা পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং সিস্টেমের জন্য পানির প্রাপ্যতা, পরিবেশগত ঝুঁকি, ডেটার নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিবিড় মূল্যায়ন জরুরি।

 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

উন্নত অবকাঠামো, ডেটা নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো যদি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা যায়, তবে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। বৈশ্বিক প্রযুক্তির এই যুগে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল মানচিত্রে বাংলাদেশ অন্যতম একটি এআই কম্পিউটিং হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শিরোনাম :
অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা কী? বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ! জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর বৈশ্বিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে আবার আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি! বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত পোস্ট! তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম! মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’ আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা কী? বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ! জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর বৈশ্বিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে আবার আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি! বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত পোস্ট! তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম! মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’ আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.