খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
আজ শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে ‘ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, “আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে চাই। আমাদের হারানো নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে খেলাধুলার মাধ্যমেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক মতভেদ ভুলে দল-মত–নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তৈরির মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে রূপ দেওয়ার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এ লক্ষ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ১০টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার একটি ঝিনাইদহে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহের বর্তমান জেলা স্টেডিয়ামটিকে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারিসহ একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে।
ঝিনাইদহে সুইমিংপুল নির্মাণের স্থানীয় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমিনুল হক জানান, বর্তমানে দেশে ২২টি জেলায় সুইমিংপুল রয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই একটি করে সুইমিংপুল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহেও একটি আধুনিক সুইমিংপুল তৈরি করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলাতেই আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ করা হবে। তবে প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরেই ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা।

