ঘরোয়া মৌসুমের বিরতিতে জেলা-উপজেলায় গিয়ে শৌখিন বা ‘খ্যাপ’ ফুটবলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
আজ রোববার বিকেলে বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, “এ রকম বিষয় আমাদের সামনে এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখব। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” সামাজিক, রাজনৈতিক অনুরোধ বা আর্থিক প্রলোভনে পেশাদার ফুটবলারদের এমন অনিয়ন্ত্রিত অংশগ্রহণকে বাফুফে যে সহজভাবে নিচ্ছে না, সভাপতির বক্তব্যে তা স্পষ্ট।
সেপ্টেম্বর উইন্ডো ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট
সামনে সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোকে ঘিরে বাফুফের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময়ে কিরগিজস্তানে ত্রিদেশীয় বা প্রীতি টুর্নামেন্ট খেলার যেমন আমন্ত্রণ রয়েছে, তেমনই ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তাভাবনাও করছে বাফুফে।
এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল জানান, “আমরা বাংলাদেশে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য দুটি দেশের সম্মতি পেয়েছি। আবার কিরগিজস্তানেও আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। জাতীয় দল কমিটির সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নেব, ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট করব নাকি বাইরে খেলতে যাব।”
ফিফার নিষেধাজ্ঞা ও লিগের ভবিষ্যৎ
সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোর আগেই নতুন ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরু করতে চায় বাফুফে। তবে তিন ক্লাব বর্তমানে খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক না দেওয়ার কারণে ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লাবগুলো বকেয়া পরিশোধ করে নিষেধাজ্ঞা তুলতে ব্যর্থ হলে বাকি ১০ দল নিয়েই লিগ শুরু করা হবে বলে জানান বাফুফে প্রধান। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ১০ দল নিয়েই লিগ অনুষ্ঠিত হবে।”
নিষেধাজ্ঞায় থাকা ক্লাবগুলোর সহযোগিতায় বাফুফে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জানিয়ে তাবিথ আরও যোগ করেন, “ফিফাকে আমরা চিঠি লিখেছি। তবে ফিফা খেলোয়াড়দের পাওনার বিষয়ে খুবই কঠোর। এখানে আংশিক অর্থ পরিশোধের (পার্ট পেমেন্ট) সুযোগ রয়েছে। যেসব ক্লাব আমাদের সহায়তা চেয়েছে, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি।”
কক্সবাজারে ফিফা টেকনিক্যাল সেন্টার
বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণে অর্থায়ন করতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। এর জন্য বাফুফের নিজস্ব জমির প্রয়োজনীয়তা ছিল। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বাফুফে ২৫ একর জমি চাইলেও আপাতত ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।
বাফুফে সভাপতি বলেন, “সরকার আমাদের ১৫ একর জমি দিচ্ছে। আমরা জমির মিউটেশন ফি বাবদ এক লাখ টাকা প্রদান করব। জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফের নামে নিবন্ধিত হলেই ফিফার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় আমরা এগোব।”
ফিফার বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে অবস্থান
সম্প্রতি ফিফার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের একটি প্রস্তাব নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে বাংলাদেশও ওই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বাফুফে সভাপতি।
তাবিথ আউয়াল স্পষ্ট করেন, “আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নির্বাহী কমিটির সভার মাধ্যমেই নিই এবং আপনাদের জানাই। যেহেতু ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বাতিলই হয়ে গেছে, তাই এ নিয়ে আর কথা বাড়ানোর কিছু নেই। তবে এই বিষয়ে আমরা আগে থেকে কোনো (সমর্থনসূচক) সিদ্ধান্ত নিইনি।”

