জার্মানিতে নির্দেশ দেওয়ার পরও অবস্থান সনাক্ত করতে না পারায় প্রায় ৯ হাজার অবৈধ অভিবাসীর ডিপোর্টেশন বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির প্রশাসন। রাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’ ও ‘ডাই ওয়েল্ট’-এ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৮,৮২৬টি জোরপূর্বক বহিষ্কারের পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়। এই তালিকায় প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং জার্মানিতে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকেরা ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রবল হয়েছে:
- সুযোগ-সুবিধা বাতিলের দাবি: সিডিইউ-এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মুখপাত্র গুন্টার ক্রিংস জানান, যারা ডিপোর্টেশন এড়াতে আত্মগোপনে যাবে, তাদের সব ধরনের সামাজিক ও সরকারি আর্থিক সাহায্য অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
- এএফডি-র সমালোচনা: ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) বর্তমান সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পূর্ব জার্মানির আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
- ডিটেনশন সেন্টার বৃদ্ধির দাবি: সিডিইউ-এর সহযোগী দল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) এমপি আলেকজান্ডার হফম্যান জানান, অভিবাসীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ডিপোর্টেশনের পূর্ববর্তী বন্দিশালা বা ডিটেনশন সেন্টারে জায়গার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা
জার্মানির বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী, দেশের ১৬টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ডিপোর্টেশন আদেশ কার্যকর করা, অভিবাসীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের আটকে রাখার দায়িত্ব ন্যস্ত। জার্মান আইন অনুযায়ী বাসিন্দাদের ঠিকানা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও অভিবাসীরা ঠিকানা গোপন করলে পুলিশ তাঁদের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারছে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব কেবল চূড়ান্ত পর্যায়ে বিমানবন্দর থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব স্থল সীমান্তে পুনরায় তল্লাশি চৌকি চালু করে এবং অপরাধে দণ্ডিত ও প্রত্যাখ্যাত আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠাতে কাবুলের তালেবান সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি সম্পাদন করে।

