অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিকতায় এবার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নিউজিল্যান্ড। সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিতে তাঁর সরকার সংসদে নতুন আইন পাসের জন্য বিল উত্থাপন করবে।
আইনটি অমান্য করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় প্লাটফর্মগুলোকে নিজ দায়িত্বে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ব্যবহারকারীর পুরোনো অ্যাকাউন্ট তথ্য, ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি) বা ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, “নিউজিল্যান্ডের এক প্রজন্মের শিশুদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তিকর অ্যালগোরিদম এবং অহেতুক মানসিক চাপের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে, যা তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও স্বাভাবিক শিক্ষার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
তবে প্রস্তাবিত বিলটির সংসদে পাসের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জোট সরকারের দুই শরিক দল’এসিটি (ACT)’ এবং ‘নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট’ শুরুতেই বিলটির বিরোধিতা করেছে। নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট দলের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স মন্তব্য করেছেন, এ ধরণের পদক্ষেপ সন্তান পালনে পারিবারিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে এবং শিশুদের প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদের।
অবশ্য লাক্সন মনে করেন, শতভাগ শিশুকে প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত না হলেও একটি দৃঢ় নীতিগত আইন প্রণয়ন করা বর্তমান সময়ের দাবি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সংসদীয় ভোটাভুটিতে সব পক্ষের সহযোগিতা আশা করছে।

