আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের একটি সমন্বিত মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে থাকা এ পরিকল্পনাটি শিগগিরই জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে জ্বালানি মন্ত্রী এটি সংসদে উপস্থাপন করবেন।’
লক্ষ্য অর্জনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল:
অর্থনীতির টেকসই রূপান্তরে সরকার তিন ধাপের ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী:
-
প্রথম ধাপ (রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন): ১ বছর মেয়াদি এ ধাপে সামষ্টিক অর্থনীতির অবনতির ধারা রোধ করে স্থিতিশীলতা ফেরানো হবে।
-
দ্বিতীয় ধাপ (রেস্টোরেশন): পরবর্তী ৩ বছরে রাজস্ব ব্যবস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও অবকাঠামোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে।
-
তৃতীয় ধাপ (রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন): শেষ ৫ বছরে কাঠামোগত রূপান্তর, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
অর্থনৈতিক দূরদৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি:
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২.৭ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা সহজীকরণে ‘বাংলাবিজ’ নামে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘এফডিআই হিট ম্যাপ’ প্রকাশের তথ্যও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

