সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে কেবল প্রচুর অর্থ-সম্পদই পরিবারে প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ইসলামি শরিয়তে ‘বরকত’ বলতে বোঝায় আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এমন কল্যাণ ও স্থায়ীত্ব, যার ফলে অল্প সম্পদেও মিলবে অপার প্রশান্তি ও বরকত।
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সংসারে আল্লাহর রহমত ও বরকত বজায় রাখার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন:
পরিবারে বরকতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহভীতি বা তাকওয়া। সুরা আল-আরাফের ৯৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন— অধিবাসীরা যদি ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আকাশ ও জমিনের বরকতের দরজা তাদের জন্য খুলে দেওয়া হতো।
২. নামাজ ও নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত:
পরিবারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ঘরে নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। বিশেষ করে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করলে শয়তান সেই ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় (সহিহ মুসলিম)।
৩. ভোরের সময়কে কাজে লাগানো:
দিনের সূচনা ইবাদত ও ভালো কাজের মাধ্যমে করা বরকতের অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের ভোরবেলার সময়ের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন (আবু দাউদ)। তাই ফজরের পর অলসভাবে ঘুমিয়ে না থেকে জিকির, তিলাওয়াত ও কাজ দিয়ে দিন শুরু করা উচিত।
৪. হালাল উপার্জন, শুকরিয়া ও সদকা:
সংসারে বরকত পাওয়ার প্রধান শর্ত উপার্জনের পথ হালাল হওয়া। হারাম উপার্জনে বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকলেও তা বরকত ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া) প্রকাশ করলে আল্লাহ নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন (সুরা ইবরাহিম: ৭)। সেই সঙ্গে নিয়মিত সাধ্যমতো সদকা করা উচিত।
৫. ঘরে সালাম প্রদান ও একসঙ্গে খাবার গ্রহণ:
ঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া এবং আহারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নাত। পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে খাবার খেলে খাবারে বরকত নাজিল হয় (আবু দাউদ)।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা:
আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া ও তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু দীর্ঘ করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে (সহিহ বুখারি)।
সংসারে বরকত পেতে কেবল অর্থ উপার্জনের পেছনে না ছুটে ইমান, আমল, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সুন্নাহসম্মত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাই উত্তম পথ।

