মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলগত কার্যক্রম নিয়ে সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, ইসহাক দার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত ৭ই আগস্ট এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, যা মুসলিম দেশগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানে বোমা বিস্ফোরণ এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার পর থেকে এই সংঘাতের সূচনা হয়।
চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকটি গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অংশগ্রহণ করেছিল। হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে ইস্তাম্বুলে এই সফল আয়োজনের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ইসহাক দার। বৈঠকে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে দুই মন্ত্রী বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলোচনায় ইসহাক দার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করেন। বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের লক্ষ্য অর্জনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

