তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত ‘ফেইমল্যাব অ্যাকাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লন্ডন স্কুল অব ইংলিশের শিক্ষার্থী হুমাইরা তাফসির সারা। বিজয়ী হিসেবে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে যুক্তরাজ্যে আয়োজিত ‘চেলটেনহ্যাম সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে’ অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফুলার রোডে অবস্থিত নিজস্ব কার্যালয়ে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন যথাক্রমে স্যার জন উইলসন স্কুলের শিক্ষার্থী ওয়ারদা ফাতিমা খান এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. জিয়াউল হক রেয়ান।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা ও যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নিয়মানুযায়ী, প্রতিযোগীদের কোনো ডিজিটাল স্লাইড বা নোট ছাড়া কেবল হাতে বহনযোগ্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে ৩ মিনিটের মধ্যে যেকোনো জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণা আকর্ষণীয়ভাবে বুঝিয়ে বলতে হয়।
আয়োজকরা জানান, এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২২টি স্কুলের ৪ ৪ জন শিক্ষার্থী আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেওয়ার পর চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন।
গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “ফেইমল্যাবে শিক্ষার্থীরা কতটা জানে তা বড় কথা নয়, বরং তারা যা জানে তা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারছে—সেটিই মূল বিচার্য বিষয়।”
অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট আহসানুল আজাদ, আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা সহযোগী ফারিয়া মারহা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম।
চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার আগে ফাইনালিস্টরা যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত বিজ্ঞানবিষয়ক উপস্থাপক ডালাস ক্যাম্পবেলের পরিচালনায় দুদিনের একটি মাস্টারক্লাসে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও ফাইনালিস্টদের হাতে ট্রাভেল ভাউচার, ‘প্রথম আলো’র ই-পেপার ও বিজ্ঞান চিন্তা ডিজিটালের বিনামূল্যে সাবস্ক্রিপশনসহ বিভিন্ন উপহার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

