ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নেই, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ‘অসীম’: ট্রাম্প

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং দেশ ও তার মিত্ররা দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিতে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তবে এই উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কার্যত ‘অসীম’। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কিছুটা ‘সীমিত’।

এর আগে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ রাত ১২:৩৪ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর পরিমাণে ‘গোলাবারুদ’ রয়েছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ধরণের অস্ত্রের ক্ষেত্রে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) নামের একটি থিংক ট্যাংকের বিশ্লেষণেও একই ধরণের সংকটের কথা বলা হয়েছে। যদিও পেন্টাগন এই ঘাটতির খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকার সামরিক বাহিনী এখনও পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধশক্তি। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে আঘাত হানার মতো সমস্ত সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কমান্ডে সফল অভিযান চালানোর পরও দেশের স্বার্থ ও জনগণকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ও প্রস্তুত অস্ত্রাগার রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবরকে যারা আমেরিকার দুর্বলতা ভাববে, তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কম ছিল। পাঁচ মাস ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এক-তৃত্যাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

সিএসআইএস-এর প্রধান গবেষক মার্ক এফ. কানসিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ যদি আরও কয়েক মাস চলে তবে এই মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আমরা আরও কয়েক মাস চালিয়ে যেতে পারব। তবে আমার ধারণা, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চীনের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত, যেখানে আমাদের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে।” কানসিয়ান আরও জানান, স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সেগুলো ব্যবহারে ঝুঁকি বেশি। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফুরিয়ে গেলে এবং কম দূরত্বের অস্ত্র ব্যবহার করতে হলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা অনেক বাড়বে।

স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি এ. গ্রিকো বলেন, “এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতেও আমাদের কয়েক বছর সময় লাগবে, অথচ সেই যুদ্ধপূর্ব মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।” সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো তৈরি করা অত্যন্ত জটিল, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা উৎপাদনকে ব্যাহত করে এবং গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি না হওয়ায় বিপুল মজুদের প্রয়োজন মনে করেনি। এছাড়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে একটি আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সাধারণত দুই থেকে তিনটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়। চলমান যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে ১,০০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পরপরই গত ৪ মার্চ হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান মাইক রজার্স (রিপাবলিকান-আলাবামা) সতর্ক করেছিলেন যে, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সামগ্রীর মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে, যা চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। এছাড়া অতীতে বাইডেন প্রশাসনের সময় লোহিত সাগরে হুথিদের বিরুদ্ধে শত শত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং গত বছর ইরানে হামলা, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযান ও নাইজেরিয়ায় আইএসআইএস-এর ওপর ক্রিসমাসের দিনের হামলায় ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারও এই ঘাটতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের এই সংকট ইতিমধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইউক্রেনকে ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত ১ আগস্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন যে, তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। ওই দিন রাশিয়ার ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনী মাত্র একটি ঠেকাতে সক্ষম হয়। এছাড়া জাপান, তাইওয়ান এবং বর্তমানে ইরানি হামলার মুখোমুখি হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

শিরোনাম :
মেলবোর্ন রেনেগেডসের টাইটেল স্পন্সর হলো ট্যানজারিন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা! সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছে আট দিন পর উৎপাদনে ফিরল রামপাল কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার সম্মানজনক ‘ওএএম’ পদক পেলেন বাংলাদেশি অধ্যাপক শাহজাহান খান ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে সৌদির রিয়াদ ও আরামকো স্থাপনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যাত্রাবাড়ীতে আবারও পর পর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১ মেলবোর্ন রেনেগেডসের টাইটেল স্পন্সর হলো ট্যানজারিন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা! সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছে আট দিন পর উৎপাদনে ফিরল রামপাল কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার সম্মানজনক ‘ওএএম’ পদক পেলেন বাংলাদেশি অধ্যাপক শাহজাহান খান ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে সৌদির রিয়াদ ও আরামকো স্থাপনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যাত্রাবাড়ীতে আবারও পর পর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.