প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালে প্রেমিকার পেছনে বিলাসী উপহার ও সফর বাবদ খরচ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্রেকআপের পর ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ধনকুবের ব্যবসায়ী। তবে তাঁর সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট।
সিঙ্গাপুর হাইকোর্টের এই রায়ের খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি বৈশ্বিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি তাঁর সাবেক প্রেমিকা ও সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। সম্পর্ক চলাকালে তিনি প্রেমিকার পেছনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেছিলেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
যেসব খাতে বিপুল অর্থ খরচ
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি বিমানে চন্দর আগরওয়ালের সঙ্গে ফেলিসিয়ার পরিচয় হয় এবং ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের শেষভাগ পর্যন্ত তাঁদের প্রেম চলে। সম্পর্কের সময় আগরওয়াল প্রেমিকাকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন।
আদালতে সিইও দাবি করেন, এসব অর্থ তিনি ফেরতযোগ্য ‘সুদমুক্ত ঋণ’ হিসেবে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবিকৃত খরচের তালিকায় ছিল:
-
ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া: প্রেমিকার ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার।
-
বিলাস ভ্রমণ: বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও হোটেলের খরচ বাবদ ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার।
-
বিশেষ পরামর্শক ফি: প্রেমিকার ফ্ল্যাটের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার।
-
অন্যান্য খরচ: শিক্ষা কোর্সের ফি ও জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ৪৫ হাজার ডলার।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
তবে সিঙ্গাপুর হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, আগরওয়াল স্বেচ্ছায় এসব বিলাসবহুল উপহার দিয়েছিলেন। এগুলো যে ‘ঋণ’ ছিল, তার সপক্ষে কোনো লিখিত চুক্তি বা প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।
বিচারক উল্লেখ করেন, চন্দর আগরওয়াল লির প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়ে একের পর এক দামি উপহার দিয়েছেন। সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং দেওয়া উপহারের অর্থ আদায় করতে আইনি পথ বেছে নেন।
রায়ে ১৭শ শতকের প্রখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে আদালত বলেন, “প্রেম যখন ঘৃণায় রূপ নেয়, তখন সেই ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।” আদালত ব্যবসায়ী আগরওয়ালকে মামলার যাবতীয় আইনি খরচ বহন করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

