সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন উমরাহ যাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং অন্যজন প্রবাসী শ্রমিক মো. শাহেদ আহম্মেদ। বিমানবন্দরে হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া শেষ পোস্টে সফরটিকে ‘জীবনের সেরা সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন নাসরুল্লাহ।
নিহত মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ‘জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম’ মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। অন্যদিকে নিহত অপর বাংলাদেশি মো. শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুরে।
পবিত্র উমরাহ পালনের উদ্দেশে ঢাকার ৪১ সদস্যের শিক্ষক কাফেলার সঙ্গে সৌদি আরবে যান নাসরুল্লাহ। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে জেদ্দাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষাকালে ফেসবুকে শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের কাফেলা নিরাপদে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জীবনের সেরা সফরের পথে প্রতিটি মুহূর্ত কাটুক মহান রবের অশেষ রহমত ও মেহেরবানিতে। আজকের জোহরের সালাতও এখানেই। বাকি সফরটুকুও যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়।”
এর কিছুক্ষণ পরেই টার্মিনাল ৩-এ বিকট শব্দে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটলে প্রাণ হারান তিনি। এই ঘটনায় নিহত শাহেদ ও নাসরুল্লাহর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

