ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের চ্যারিটি কমিশন বুধবার ঘোষণা করেছে যে, তারা এমন কিছু ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো, দাতব্য তহবিলের কতটুকু অর্থ অবৈধ বসতিগুলোতে পাঠানো হয়েছে, এই ব্যয় দাতব্য সংস্থাগুলোর নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং এর জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করা।
তদন্তটি মূলত লেবার পার্টির এমপি মেলানি ওয়ার্ডের দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। ওয়ার্ড জুন মাসে কমিশনকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেছিলেন যে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অন্তত ৩২টি দাতব্য সংস্থা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোতে প্রায় ৩৭.৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এর আগে জানা গিয়েছিল যে, দুটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সুসিয়ার বেনি আকিভা ইশিভা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, ওয়ার্ডের অভিযোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই কমিশন এই তদন্ত শুরু করেছে।
কমিশনের হাই-রিস্ক কমপ্লায়েন্সের সহকারী পরিচালক স্টিফেন রোয়েক তদন্ত সম্পর্কে বলেন, ফিলিস্তিনের অবৈধ বসতিগুলোতে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো তথ্য যাচাই করা, এরপর প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা তৈরিতে সহায়তা করবে, যা জনমনে আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে জরুরি।
প্রাথমিকভাবে আটটি দাতব্য সংস্থাকে এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, তবে সময়ের সাথে সাথে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা তাদের অনুসন্ধানের পরিধি সম্পর্কে পুলিশ এবং এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমসকে অবহিত করেছে। তবে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের যুদ্ধাপরাধ ইউনিট জানিয়েছে যে, তারা বর্তমানে অবৈধ বসতিতে অনুদান সংক্রান্ত কোনো দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে না।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার জুন মাসে পার্লামেন্টে বলেছিলেন যে, দাতব্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে অবৈধ বসতিগুলোতে অর্থ পাঠানো হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি দাতব্য তহবিলের ট্যাক্স রিলিফ বা 'ইউকে গিফট এইড' অবৈধ বসতিতে ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মেলানি ওয়ার্ড অবশ্য কেবল তদন্ত নয়, বরং এই ধরনের অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'পিস নাউ'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৪১টি অবৈধ বসতি এবং ৩৬০টি আউটপোস্ট রয়েছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমে রয়েছে আরও ১৫টি বসতি। ২০১৬ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৩৩৪ অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে সমস্ত বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

