ইতালিতে ভালো চাকরির লোভ ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১২ বছরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার ও অমানুষিক নির্যাতনের মুখে ফেলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। এর আগে সোমবার বিকেলে রাজধানীর বনানী সি-ব্লক এলাকায় এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, গত ১৬ জুলাই মিসরে আটকে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ওপর চলা ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানান। ফাতেমা ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে আরজু প্রায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রথমে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অকথ্য নির্যাতন শুরু হলে পরিবারের ৩ পুরুষ সদস্য কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরেন।
তবে ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী শ্রীলঙ্কায় আটকা পড়েন। পরবর্তীতে আঞ্জুমান আরা সেখানে আত্মগোপন করলেও ফাতেমাকে ইতালির মিসরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর কথা বলে মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায়ে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ চালানো হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত আরজু ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামে লাইসেন্সবিহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই পাচার চক্র পরিচালনা করে আসছিল। তার মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরেই প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ৩-৪ দিন আগে মিসর থেকে দেশে আসা আরজু আবারও মিসরে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সে সময়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা ভুক্তভোগীরা রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরজুকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মিসরে আটকে থাকা ফাতেমা ও শ্রীলঙ্কায় থাকা আঞ্জুমান আরাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

