৯০ মিনিটের ঐতিহ্যবাহী ফুটবলের গতি, কৌশল আর টানটান উত্তেজনা যখন ছোট মাঠে নেমে আসে, তখন তার পরিধি দাঁড়ায় ৪০ মিনিটে। ফুটবলের এই দ্রুতগতির সংস্করণ ‘ফুটসাল’ বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় হলেও, এবার বাংলাদেশেও বড় পরিসরে নিজের জানান দিল। সম্প্রতি উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হলো ‘ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ’-এর প্রথম আসর, যেখানে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে ‘আইএম টেন এফসি’।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের ভেতরে ও ছোট জায়গায় খেলা পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে হুয়ান কার্লোস সেরিয়ানি ফুটসালের সূচনা করেছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী পর ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশে সেই ফুটসাল পেল বড় ঘরোয়া আয়োজন।
প্রথম আসরেই বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে নারীদের প্রতিযোগিতা। রবিবারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ফুটবল দলের তারকাদের নিয়ে গঠিত আইএম টেন এফসি এবং তরুণদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পোর্টস ক্লাব। সাফজয়ী অভিজ্ঞ তারকা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভিন ও মাৎসুশিমা সুমাইয়াদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া আইএম টেনকে ম্যাচের শুরুতেই বড় পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয় সেনাবাহিনী। সুশৃঙ্খল ও গতিময় খেলায় ভর করে সেনাবাহিনী দ্রুতই ২-০ গোলে এগিয়ে যায়।
তবে ভুটান ও মালদ্বীপের পেশাদার লিগ এবং আন্তর্জাতিক আঙিনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খেলায় দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে আইএম টেন। সাবিনা খাতুনের জোড়া গোলের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। আইএম টেন এফসি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান, যিনি খেলোয়াড়দের উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করে দেশের সেরা তারকাদের এক সুতোয় গেঁথেছিলেন।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি। কর্মদিবসের সন্ধ্যায়ও গ্যালারি ভর্তি দর্শক দলগুলোকে উৎসাহ যুগিয়েছেন। আয়োজনে ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজার মেয়ে, রাশিয়ান বংশোদ্ভূত নোরা সালাউদ্দিন এবং আঞ্চলিক খ্যাপ ফুটবলের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতায় আলাদা মাত্রা যোগ করে।
ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির মতোই ফুটসালের মূল আকর্ষণ কম সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও একের পর এক গোলের সম্ভাবনা। ৯০ মিনিটের ফুটবলের বাংলাদেশে ৪০ মিনিটের ফুটসালের এই প্রথম আসর এটিই প্রমাণ করেছে—দর্শকের মন জয় করার পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে রোমাঞ্চকর এই খেলার।

