নেপালের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক প্রবাসী সংগঠনগুলো। ম্যাকার্থার অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি ও নেপালি কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এক মানবিক চ্যারিটি ব্রাঞ্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিডনির মিন্টোতে অবস্থিত ‘জমিদার বাড়ি’ রেস্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্বেলটাউন সিটির কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশের সৌজন্যে এবং ম্যাকার্থারের প্রবাসী বাংলাদেশি ও নেপালি কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণে তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমটি সফলভাবে পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি
মানবিক এই উদ্যোগে সংহতি জানাতে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও ফেডারেল পর্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।
উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন:
-
জনপ্রতিনিধিবৃন্দ: হিউজের ফেডারেল সংসদ সদস্য ডেভিড মনক্রিফ এমপি, ক্যাম্বেলটাউনের মেয়র কাউন্সিলর ডার্সি লাউন্ড, মাননীয় আনুলাক চান্থিভং এমপি, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী এবং খলিল মুহাম্মদ মাসুদ।
-
কমিউনিটি ও আদিবাসী প্রতিনিধি: সম্মানিত আদিবাসী প্রবীণ আঙ্কেল ডেভিড বেল, মোহাম্মদ শফিকুল আলম, উষা খাডকা, মদন রাউত, মোয়ানা জে. স্ট্রিকল্যান্ড, ডায়ানা মাইলাটা, জুই সেন, মিনা শেখ, খালেদা কায়সার, পূরবী পারমিতা বোস, মিলি ইসলাম, নাসরিন মোফাজ্জল, আরফিনা মিতা, রুমানা হক এবং শাহনাজ আক্তার লিপি।
-
সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি: লিভারপুল কমিউনিটি ভয়েস অব অস্ট্রেলিয়ার সম্পাদক সৈয়দা ইশরাত ফেরদৌস, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মতিন, বাংলাদেশি জার্নালিস্ট ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি হুমায়ুন কবির রোজ এবং সহ-সভাপতি গালিব ইবনে রিয়াজ।
মানবিক সংকট ও সম্প্রীতির বার্তা
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল উদ্যোক্তা কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ বলেন, “প্রবাসে থাকলেও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক সংকট আমাদের স্পর্শ করে। নেপালের মানুষ যখন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কঠিন সময় পার করছে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কমিউনিটির সদস্যদের উদার সহযোগিতার কারণেই এই চ্যারিটি আয়োজন সার্থক হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগ কেবল অর্থ সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ম্যাকার্থার অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি ও নেপালি সমাজের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সংগৃহীত তহবিল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন সহায়তায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

