বিশ্বের ৩০টি দেশের ১৭ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য ২০২৬-২৭ মেয়াদে ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ (সাবক্লাস ৪৬২) ভিসা চালু রেখেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণরা অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ও ছুটির পাশাপাশি নিজ খরচে থাকার জন্য স্বল্পমেয়াদি কাজ করার সুযোগ পাবেন।
তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত নেই। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি।
ভিসার সুযোগ ও প্রধান শর্তাবলী
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৫ সাল থেকে চলে আসা ‘ওয়ার্কিং হলিডে মেকার’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রস্তুত করা এই সাবক্লাস ৪৬২ ভিসাটি মূলত তরুণদের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ভ্রমণের ওপর গুরুত্ব দেয়।
এই ভিসার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
-
মেয়াদ ও কর্মসংস্থান: প্রাথমিক মেয়াদ ১২ মাস। এই সময়ে ভিসাধারীরা ভ্রমণ করতে পারবেন এবং ভ্রমণ ব্যয় মেটাতে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত একই নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন।
-
বয়স ও যোগ্যতা: সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা এতে আবেদন করতে পারবেন। বয়স ছাড়াও প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে দু’বছরের উচ্চশিক্ষা) ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়।
-
অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা: ভ্রমণের প্রারম্ভিক খরচ চালানোর জন্য ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হয়।
লটারি ও কোটা ব্যবস্থা
সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার আওতায় আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩০টি দেশের নাগরিকেরা সরাসরি আবেদনের সুযোগ পান। তবে দেশভেদে বাৎসরিক কোটা নির্ধারিত থাকে।
-
লটারি/ব্যালট ব্যবস্থা: চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আবেদনকারী থাকায় প্রথম ভিসার ক্ষেত্রে লটারি বা ব্যালট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরই কেবল তারা মূল ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে পারেন।
-
নির্দিষ্ট সীমা: এই অর্থবছরের জন্য ভারতের জন্য ১,০০০, ভিয়েতনামের জন্য ১,৫০০ এবং চীনের জন্য ৫,০০০টি প্রথম ভিসার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত বিমান টিকিট বা ভ্রমণসংক্রান্ত কোনো আগাম লেনদেন না করতে, কারণ প্রক্রিয়াটি যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগতে পারে।

